মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসছেন বুধবার6 মিনিটে পড়ুন

39

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘোষণা মতে দু’দিনের সফরে ঢাকা আসছেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বাইগান। কিন্তু কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দিনের হিসাব যাই হোক, কার্যত ৩০ ঘণ্টার কম সময় বাংলাদেশে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের শ্যাডো ফরেন মিনিস্টার বাইগান। সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পেও’র নানামুখী ব্যস্ততা বা অনুপস্থিতিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট সামলে রাখা ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট বাইগান ১৪ই অক্টোবর বিকালে স্পেশাল ফ্লাইটে ঢাকা পৌঁছাচ্ছেন। দিল্লি হয়ে আসছেন তিনি। ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবেন ১৬ই অক্টোবর সকালে। মূলত ১৫ই অক্টোবর সারাদিন ঢাকায় ব্যস্ত কর্মসূচিতে কাটাবেন তিনি। সময়ের তাড়া থাকলেও হাই প্রোফাইল ওই সফরকে যথাযথ গুরুত্বে সফল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টরা বলছে, বাংলাদেশে বাইগানের কাউন্টার পার্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি’র সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হবে তার।

 

গুরুত্বপূর্ণ ওই অতিথির সম্মানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে একটি নৈশভোজ আয়োজনের চেষ্টা রয়েছে হোস্ট বাংলাদেশের। ১৪ই অক্টোবর সন্ধ্যায় ওই ভোজ-বৈঠক হতে পারে। পরদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক ছাড়াও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তার সৌজন্য সাক্ষাতের অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাওয়া হয়েছে। ওই দিনে সরকার প্রধানের পূর্ব নির্ধারিত কোনো কর্মসূচি না থাকলে বাইগান দেখা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেগুনবাগিচা বলছে, একাধিক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর করলেও স্টেট ডিপার্টমেন্টের নাম্বার টু বা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদধারীর এটাই হতে যাচ্ছে প্রথম বাংলাদেশ সফর। তাছাড়া ওই পদে বাইগানের মতো হাই প্রোফাইল ব্যক্তিত্ব, যিনি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত আস্থাভাজন (উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মূল দায়িত্বে তিনি) তার কাছ থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু আদায়ের সুযোগ রয়েছে। সূত্র মতে, বাইগানের সরকারি কর্মসূচিতে প্রতিনিয়ত নতুনমাত্রা যুক্ত হচ্ছে। চূড়ান্ত মুহূর্ত পর্যন্ত তাতে সংযোজন-বিয়োজন চলবে জানিয়ে একটি সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সূচি মতে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ধানম-ি-৩২ নম্বর সড়কস্থ জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারেন তিনি। সরকারি কর্মসূচি ছাড়াও নাগরিক সমাজ, শ্রম খাতের প্রতিনিধি, এনজিও ব্যক্তিত্বসহ অন্যদের সঙ্গে তার পৃথক সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হতে পারে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্রের দপ্তর গত শুক্রবার এক মিডিয়া নোটে জানিয়েছে, ঢাকা সফরকালে বাইগান বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সিরিজ বৈঠকে মিলিত হবেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার অংশীদারি সম্পর্কের নানা দিক ও বিভাগ নিয়ে ঢাকার বৈঠকগুলোতে আলোচনা করবেন তিনি। বাইগানের ঢাকার এনগেজমেন্টে সবার সমৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত অবাধ, মুক্ত, সমন্বিত, শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক রিজিওন প্রতিষ্ঠার যে প্রয়াস তা এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে। করোনা পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠেয় ওই সফরে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে কথা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা দিক ও চ্যালেঞ্জ প্রশ্নে পারস্পরিক সহযোগিতা কতটা বাড়ানো যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে। ঢাকাও বলছে, মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বাইগানের সফরটির বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। তার সফরে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বের ক্রুসিয়াল অনেক ইস্যু আসবে। তবে সার্বিকভাবে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। স্মরণ করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদ-প্রাপ্ত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে মুজিব শতবর্ষে ফেরত চায় ঢাকা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার দ- কার্যকর করা জরুরি বলে মনে করে সরকার। তাছাড়া মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ অ্যাকাউন্টে একসেস চায় বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্য পণ্যের বিশেষ সুবিধাও চায় ঢাকা। অন্যদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বাস্তবায়নে ভূ-রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের সক্রিয়তা চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে গত মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড. মার্ক টি এসপার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে সহায়তা চান। একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতি নিয়ে তারা আলোচনা করেন। বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের তাগিদ রয়েছে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের বিশাল টিম থাকার পরও এখানে স্বতন্ত্র একটি ফরেন কমার্শিয়াল সার্ভিস অফিস খুলছে যুক্তরাষ্ট্র। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন-করোনাকালে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা বাইগানের ঢাকা সফরটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায়োরিটি বিবেচনায় তার অত্যাসন্ন সফরটি ঢাকার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসাবে বিবেচ্য।

সুত্র মানব জমিন