কমিটির সম্পাদকের নেতৃত্বেই মন্দিরে খুন করা হয় সন্ত্রাসী সম্রাটকে!

189

বগুড়া এক্সপ্রেসঃঃ বগুড়ার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অতুল চন্দ্র দাসের নেতৃত্বেই মন্দির চত্বরে সন্ত্রাসী সম্রাট চন্দ্র দাসকে (২৭) কুপিয়ে খুন করা হয়।

অতুল চন্দ্র দাসের নাম উঠে আসার পর থেকেই পুলিশ তাকে খুঁজছে। অতুল চন্দ্র দাস বগুড়া সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক।

নিহত সম্রাট ২০১১ সাল পর্যন্ত সাবগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাথে জড়িত ছিলেন। এলাকায় জায়গা জমি কেনা-বেচা, বাড়ি নির্মাণে চাঁদাবাজি, সাবগ্রাম হাটে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা আদায় ছিল তার পেশা।

নিহত সম্রাট এবং খুনের সাথে জড়িত অতুল দু’জনই পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। অতুল এবং নিহত সম্রাট বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও এলাকায় তাদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। সরকার দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে ছিল তাদের সখ্যতা। সম্রাটের বড় ভাই জুয়েল চন্দ্র দাস ওরফে হাড়ি জুয়েল এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত। কিছুদিন আগে সম্রাটের সাথে বিরোধ হয় অতুলের। আর এরপর থেকেই সম্রাট এলাকা ছেড়ে শহরে আশ্রয় নেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সাবগ্রাম এলাকা ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে সম্প্রতি সম্রাটের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন যুবদল নেতা অতুল চন্দ্র দাস।অতুলের পক্ষে অবস্থান নেন সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় কিছু নেতা। কিছুদিন আগে অতুলের নেতৃত্বে সাবগ্রাম বন্দরে সম্রাটের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় লোকজনও অংশ গ্রহন করেন। এরপর থেকেই এলাকা ছেড়ে বগুড়া শহরে বসবাস করেন সম্রাট।

দুর্গা পূজা উপলক্ষে রবিবার রাতে সম্রাট গোপনে সাবগ্রাম মালিপাড়ায় যায় তার বাবা-মার সাথে দেখা করতে। সেখান থেকে রাত ১ টার দিকে সম্রাট দুই মটরসাইকেল যোগে সাবগ্রাম হাটের ভিতর দিয়ে পূজা মন্ডপের দিকে যাচ্ছিলেন। পূজামণ্ডপ থেকে ৫ শ গজ দূরে বাঁশ দিয়ে বেরিকেড সৃষ্টি করা হয়। তখন মটরসাইকেল ফেলে ৫ যুবক দৌড়ে পালিয়ে যায়।

সম্রাট দৌড়ে গিয়ে মন্দির চত্বরে আশ্রয় নিলে সেখানেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এসময় মন্দিরে অসংখ্য দর্শনার্থী থাকলেও তারা ভয়ে পালিয়ে যায়। মন্দিরে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ সুলতান বার্তা ২৪.কম’কে বলেন তিনি দুপুর ২ টা থেকে দায়িত্বে ছিলেন। রাত ১২ টায় ভাত খেতে যাওয়ার পর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বার্তা২৪.কম’কে বলেন, রাতেই ঘটনাস্থল থেকে সম্রাট ও তার সঙ্গীদের ব্যবহৃত দুইটি মটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। নিহত সম্রাটের নামে যুবলীগ নেতা মানিক হত্যাসহ তিনটি মামলা পাওয়া গেছে। আরো মামলা থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সুত্র বার্তাভ২৪