বগুড়ায় ছাত্রদের সঙ্গে সপ্তপদী’র দোকানীদের তুলকালাম3 মিনিটে পড়ুন

34

স্টাফ রিপোর্টার

বগুড়ায় তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মঙ্গলবার বিকেলে শহরের সপ্তপদী মার্কেটের দোকানিদের হাতাহাতি ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ এবং এক শিক্ষার্থীকে আটক করলে করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে পরবর্তীতে আটক শিক্ষার্থীকে মুক্তি এবং অভিযুক্ত দোকানিকে পুলিশ আটক করলে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। অবশ্য ঘটনার যখন সূত্রপাত সেই বিকেল ৫টার পর থেকেই সপ্তপদী মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বগুড়া জিলা স্কুলের ২০১৫ ব্যাচের ছাত্র জামান সানি জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি সপ্তপদী মার্কেটে ‘সাদাত টেলিকম’ নামে একটি দোকানে গিয়ে ৫০০ টাকার নোট খুচরা হবে কি’না তা জানতে চান। কিন্তু দোকানে থাকা মালিক বা কর্মচারীদের কেউই তার কথার জবাব না দিয়ে নিশ্চুপ থাকেন। জামান সানি অভিযোগ করেন, ‘আমি যখন আবারও টাকা খুচরা হবে কি’না জানতে চাই তখনই একজন আমাকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ শুরু করেন। আমি এর প্রতিবাদ করলে ওই দোকানের লোকজনসহ আশ-পাশের অনেকে এসে আমাকে মারপিট করে এবং আমার মোবাইল ফোন ও ম্যানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে মোবাইল ফোন পেলেও ৪ হাজার ৭৪৫ টাকাসহ ম্যানিব্যাগের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগুড়া জিলা স্কুলের ২০১৫ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে সপ্তপদী মার্কেটের দোকানিরা মারপিট করছে-এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তার সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। এরপর তারা মার্কেটে গিয়ে অভিযুক্ত দোকানীসহ তার সহযোগীদের সঙ্গে মারপিটে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সপ্তপদী মার্কেটে গিয়ে লাঠিচার্জ করে। নাজেরুল ইসলাম মুন নামে সিলেট হযরত শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পুলিশ তার কোমড়ের বেল্ট ধরে টেনে থানায় নিয়ে যায়।

মুনকে আটক করা হয়েছে-এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং স্কুলের অভ্যন্তরে অ্যালামনাই অ্যসোসিয়েশনর কার্যালয়ে সমবেত হতে থাকন। তারা আটক শিক্ষার্থীর মুক্তি এবং অভিযুক্ত দোকান কর্মচারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে পুলিশ আটক  শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দেয় এবং রেজাউল ইসলাম নামে একজনকে আটক করে।
বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, কোন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রেজাউল নামে এক দোকানীকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি।’