সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্বী দশা থেকে মুক্তি চায় মাথাইল চাপড় গ্রামের বাসিন্দারা5 মিনিটে পড়ুন

264

আরিফুর রহমান মিঠু, শাজাহানপুর(বগুড়া)প্রতিনিধিঃ বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের মাথাইলচাপড় গ্রামে সান্ত্রাসীদের কাজে জিম্বী দশা থেকে মুক্তি চায় সাধারণ মানুষ। সন্ত্রাসীদের ভয়ে এই গ্রামের অনেক পরিবারের সন্তানরা গত ৭মাস যাবৎ নিজেদের বাড়িতে ফিরতে ফিরতে পারছে না। প্রায় সন্ধ্যার পরে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্বিত হয়ে গ্রামের ভেতরে মোহরা চালায়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দড়জা, জানালা কোপানো সহ টয়লেটের পাইপ ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটছে। প্রতিকার পেতে ওই গ্রামের গৃহবধূ চায়না বেগম গত শনিবার শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং গত রোববার সেই অভিযোগের অনুলিপি ডাকযোগে পুলিশ সুপারের কাছে দিয়েছেন। এছাড়াও শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসকের কাছেও অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন।

চায়নার অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, স্থানীয় সাগর বাহিনীর সদস্য সন্ত্রাসী মনির হোসেন, ইউসুফ হোসেন, ই¯্রাফিল হোসেন, পিন্টু মিয়া, সহ তাদের সহযোগীরা পুরো মাথাইল চাপড় সহ আশপাশের গ্রমের মানুষদের জিম্বী করে রেখেছে। রানীরহাট এলাকার সন্ত্রাসী হযরত এর ছত্র ছায়ায় এরা আধিপত্য বিস্তার করছে।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৪এপ্রিল এই এলাকায় প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয় ইউসুফ প্রামাণিকের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক(২৩)। এই ঘটনাকে পুঁজি করে বানিজ্যে নেমে পরে তার পিতা ইউসুফ। টাকা না দেয়ায় সেই মামলায় আসামী করে চায়নার ২সন্তান পারভেজ(২) এবং রাসেল(১৮)’কে।
গত বুধবার মাগরিবের নামাজ শেষে দেশীয় ধারালো অস্ত্র সহ চায়নার বাড়িতে হামলা চালিয়ে টয়লেটের গ্যাস পাইপ ভাংচুর সহ জানালা কুপিয়ে কেটেছে এই সন্ত্রাসীরা। প্রায় প্রতি রাতে এই সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাড়ার ভেতরে মোহরা দেয় এবং দীর্ঘক্ষন মাদক সেবন করে।
ইতিপূর্বে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে এই বাহিনী শাবরুল বাজারে ছিট কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের কাছ থেকে ২০হাজার টাকা চাঁদা নেয়। শফিকুল ড্রাইভারকে একই ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করে এই বাহিনীর সদস্যরা ১লক্ষ টাকা চাঁদা নিয়েছে। শাবরুল ছোট হিন্দু পাড়া গ্রামের পরিমলের ছেলে নাপিত সুমনের কাছে ৩লক্ষ টাকা দাবী করেছিলো এই বাহিনী। চাহিদা মত টাকা দিতে না পারায় শাবরুল বাজারের নাপিত সুমনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো এই সন্ত্রাসীরা। তখন গরু, স্বর্নালংকার এবং জমি ক্ষতি করে ৭০হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে এনেছিলেন সুমনের পিতা পরিমল চন্দ্র। সন্ত্রাসীরা সেই সময় আরো ১লক্ষ টাকা দাবি করেছিলো। এরপর সুমন তার ছোট ভাই গৌরাঙ্গ, স্ত্রী এবং ৪বছরের সন্তানকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। সম্প্রতি পুলিশি সহযোগীতায় তারা গ্রামে ফিরে এসেছে তবে সন্ত্রাসীদের নেয়া সেই টাকা এখনো উদ্ধার হয়নাই।
এসব ঘটনায় জড়িত এই বাহিনীর সদস্য সন্ত্রাসী আপেল মাহমুদকে পুলিশ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার কোর্টে চালান দিলেও সম্প্রতি জামীনে মুক্ত হয়ে আবারো সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়েছে। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য এই এলাকার সাধারণ মানুষকে রক্ষায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে চায়না তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার মাথাইল চাপড় গ্রামের মোস্তফা, রঞ্জু, সেলিম, বাবলুর বোন, বুলু সহ অনেকে জানান, এই সন্ত্রাসীদের ভয়ে তাদের ছেলেরা গত ৭মাস ধরে বাড়িতে আসতে পারছেনা। দীর্ঘ দিন সন্তানের মুখ দেখতে পায়না এই পাড়ার বাবা মা। তার পরেও এই সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়না। সন্তানদের ফিরে পেতে এবং গ্রামে শান্তিতে বসবাস করতে তারা সাংবাদিকদের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে জোর দাবী রেখেছেন।
এব্যপারে হযরতের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেস্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
শাজাহানপুর থানার পরিদর্শক(সার্বিক) আজিম উদ্দীন জানান, পুলিশ কাজ করছে।