কে যাচ্ছেন হোয়াইট হাউসে?4 মিনিটে পড়ুন

30

বগুড়া এক্সপ্রেস ডেস্ক

আর মাত্র ২ দিনের অপেক্ষা। এরপরই ফাইনাল। জানা যাবে মার্কিনিদের চূড়ান্ত রায়। এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কোনো শেষ নেই। এবারও কি জিতবে ডনাল্ড ট্রাম্প, নাকি হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন জো বাইডেনই! ৩রা নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে রুদ্ধশ্বাস প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধান দুই প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এরই মধ্যে গত শুক্রবার তাদের মধ্যে তুমুল এক বাকযুদ্ধ চলে। একজন আরেকজনকে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ করেন। সুইংস্টেট বলে পরিচিত মধ্যপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে একের পর এক নির্বাচনী র‌্যালি করেছেন তারা।

যে সময় করোনাভাইরাস আবার ভয়াবহভাবে আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্রে তখন হতে যাচ্ছে এই নির্বাচন।
প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষের মৃত্যু থেকে চিকিৎসকরা লাভবান হয়েছেন বলে মিথ্যা দাবি করেছেন। অন্যদিকে করোনা মহামারির কাছে ট্রাম্প আত্মসমর্পণ করেছেন বলে অভিযোগ জো বাইডেনের। এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি বলছে, এদিন ডেমোক্রেটিক দলের যেসব গভর্নর করোনাভাইরাসের বিস্তার ধীর করতে কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছিলেন, তাদের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেন নির্বাচিত হলে ছুটির দিনগুলোতে বা অন্য কোনো বিশেষ সময়ে একত্রিত হওয়া বন্ধ করে দেবেন। ট্রাম্পকে এদিন যারা দেখতে গিয়েছিলেন তাদের অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। উইসকনসিন রাজ্যের গ্রিন বে’তে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, আপনাদের রাজ্যকে দ্রুত খুলে দিতে হবে। দ্রুত তা করতে হবে। পরে তিনি যোগ দেন মিনেসোটায় রোচেস্টারের এক ইভেন্টে। সেখানে রাজ্য কর্তৃপক্ষ ২৫০ জন অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতি সীমাবদ্ধ করে দেয়া সত্ত্বেও উপস্থিত হয়েছিলেন কয়েক হাজার সমর্থক। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও বিষোদগার করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মৃতের সংখ্যা গণনা থেকে চিকিৎসকরা প্রণোদনা পেয়েছেন। তার এ দাবিকে মিথ্যা বলা হয়েছে রিপোর্টে। মিশিগানে ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপের সমাবেশে তিনি বলেন, যদি কোভিড -১৯ থেকে কেউ মারা যান তাহলে আমাদের চিকিৎসকরা বেশি অর্থ পান।
তবে করোনাভাইরাস মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আত্মসমর্পণ করেছেন বলে অভিযোগ বাইডেনের। তিনি বলেছেন, যেসব মানুষ অসুস্থ রোগীদের সেবা দিয়েছেন বা দিচ্ছেন, সেই সব চিকিৎসাকর্মীদের আক্রমণ করে কথা বলবেন না তিনি। মিনেসোটার সেইন্ট পলে এক র‌্যালিতে বাইডেন বলেন, ট্রাম্পের মতো আমরা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে আত্মসমর্পণ করবো না। এ সময় তার কথায় সায় দিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সমর্থকরা গাড়ির হর্ন বাজিয়ে সম্মতি জানান। প্রতিদ্বন্দ্বী ডনাল্ড ট্রাম্পের মতো না হয়ে তার নির্বাচনী প্রচারণা ছিল অনেকটা বিধিনিষেধের অধীনে। শুক্রবার তিনি প্রচারণা চালিয়েছেন আইওয়া, উইসকনসিন এবং মিনেসোটায়। গত জানুয়ারিতে তিনি যখন শেষবার আইওয়া গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায়, তখন বড় রকম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলেন। কারণ, সেখানে ডেমোক্রেট দল থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। মিনেসোটার স্টেট ফেয়ারগ্রাউন্ডের বাইরে তিনি প্রচারণা চালিয়েছেন ২২ মিনিট। এতে কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে তার বক্তব্যে বাধার সৃষ্টি করে ট্রাম্প সমর্থকরা। তাদের সমালোচনা করে বাইডেন বলেন, এসব মানুষ পরিশীলিত নন। তারা ট্রাম্পের মতোই। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে জাতীয় পর্যায়ে মাস্ক পরা নিয়ে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা দেয়ার সময়ও তার বক্তব্যে বাধার সৃষ্টি করেন ট্রাম্প সমর্থকরা।