বাবাকে ছাড়া চারটি ঈদ পার করলাম, ফিরে পাবো কিনা জানি না’4 মিনিটে পড়ুন

29

সাদ্দিফ অভি

১৩ বছর আগে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে এসটিএস কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কাজের উদ্দেশ্যে যান নেত্রকোনার আল মামুন। গত বছরের এপ্রিলে অপহরণের শিকার হন তিনি। সাড়ে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয় পরিবার। তারপরও গত দেড় বছর ধরে হদিস মেলেনি মামুনের।
মামুনের ফিরে আসার অপেক্ষায় এখনও দিন গুনছে স্বজনরা। আর্থিক কষ্টে বন্ধের পথে ছেলে ইমনের লেখাপড়া। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেলেও ইমনের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় ঢাকা।
মামুনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৭ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সেন্ট বালাইয়ে সিথিয়াকন বিল্ডিং কোম্পানিতে কাজ করতে যান মামুন। গত বছরের ৬ এপ্রিল কর্মস্থলের সামনে থেকে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে যায় তাকে। দুদিন পর ৮ এপ্রিল মামুনের মালয়েশিয়ার নম্বর থেকে তার স্ত্রীর ফোনে কল করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, এ ঘটনায় বিদেশিদের সঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাগরিকও জড়িত। সেই বাংলাদেশিই ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে টাকা চেয়ে যোগাযোগ করতো। মামুনের অবস্থাও সে ফোনে জানাতো। শেকলে পা বাঁধা মামুনের একটি ছবি প্রমাণ হিসেবে পরিবারের কাছেও পাঠিয়েছিলেন তিনি।
ইমন জানায়, ‘আমার বাবার সঙ্গে কথা হতো তারই (প্রবাসী ওই বাঙালি) মোবাইল নম্বরে। সেই নম্বর থেকেই ফোন করে টাকা চেয়েছিলেন। অনেক কষ্টে আনোয়ার নামে আমাদের এক আত্মীয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সে দেশে সাড়ে তিন লাখ টাকা পাঠানো হয়। পরে আনোয়ার আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অপহরণকারীদের টাকাটা দেন।’
ইমন আরও জানায়, ‘বাংলাদেশি লোকটি বলেছিল, টাকা পাওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে বাবাকে ছেড়ে দেবে। কিন্তু ছাড়েনি। দেড় বছর ধরে বাবার খোঁজ নেই। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ।’
এদিকে, স্বামীকে ফিরে পাওয়ার জন্য সহায়তা চেয়ে গত বছরের ২৫ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দিয়েছিলেন মামুনের স্ত্রী পারুল আক্তার।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বছরের ২৫ এপ্রিল চিঠিটি হাইকমিশনে পাঠায়। হাইকমিশন চিঠিটি পায় ২১ মে। এর আগে মামুনের নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত পুলিশ রিপোর্ট হাইকমিশনে পৌঁছানো হয়। ২৮ মে হাইকমিশন মামুনের সন্ধান চেয়ে মালয়েশিয়ার পুলিশের কাছে চিঠি দেয়। এরপর আরও তথ্য দিয়ে ৪টি চিঠি দেওয়া হয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে। এই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠায় হাইকমিশন। ২৪ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়া পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যে তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হয়েছে সেসব অ্যাকাউন্ট গ্রাহকদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। মামুনের মোবাইল ট্র্যাক করে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তথ্যও পাওয়া গেছে। এরপর আর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। মামুনের সন্ধান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে তারা।
এদিকে সঙ্কটে পড়েছে মামুনের পরিবার। ধার করে দেওয়া মুক্তিপণের টাকা শোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। ইমনের পড়ালেখাও বন্ধের পথে। সে নেত্রকোনা সদরের আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ইমন জানায়, ‘বাবাকে ছাড়া ৪টি ঈদ পার করলাম। তাকে আর ফিরে পাবো কিনা জানি না।’

সুত্র বাংলা ট্রিবিয়ন