শেরপুরের পল্লীতে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন4 মিনিটে পড়ুন

60

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

শেরপুরের পল্লীতে পরিকল্পিত ভাবে সন্ত্রাসী হামলা ও মারপিট করে গুরুত্বর আহত করার প্রতিবাদে শেরপুর প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৮ নভেন্বর রোববার সন্ধ্যায় ওই সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ি ইউনিয়নের গাঁড়ই মন্ডলপাড়া গ্রামের গুরুত্বর অসুস্থ হিমেল এর পিতা মো.ফরিদ উদ্দিন খন্দকার।

তিনি বলেন, গাঁড়ই মন্ডলপাড়া গ্রামে থাকা আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হযরত আব্দুর রহমান চিশ্তী (রহঃ) এর একটি মাজার শরীফ আছে। সীমাবাড়ি এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আইন-শৃংখলা ও শান্তি ভংগকারী প্রভাবশালী রওশন আলী খন্দকার তোতা(৫৫) এর পুত্র খোকা খন্দকার(২৮) ভাই মাজহারুল ইসলাম জুন্নুন(২৪) সোনিয়া আক্তার সুনুম(৩৫) বাড়ির বউ মুন্নি বেগম(২৪) গৃহবধু মিরা বেগম(৪৫) তাদের নিকট আত্মীয় কুলছুম বেগম(৪০) সহ অনেকে মিলে গত ৬ নভেন্বর শুক্রবার বিকেলে আমাদের নিজস্ব জায়গায় স্থাপিত মাজারে পূর্ব শক্রতার জের ধরে অনধিকার ভাবে জোর পূর্বক প্রবেশ করেন। এসময় তারা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের ওপরে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। উক্ত মাজার শরীফের কমিটির নিকট সন্ত্রাসীরা অন্যায় ভাবে চাঁদা দাবী করে না পেয়ে আমাদের সাজানো-গোছানো মাজার শরীফ ভাংচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। এসময় তাদেরকে বাঁধা দিলে সন্ত্রাসীরা মাজারের ঘরবাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। সন্ত্রাসীরা মাজারের বাউন্ডারীর প্রাচীর লোহার সাবল দিয়ে ভেঙে দেয়। সেইসাথে আমাদের ওপরে রক্তক্ষয়ী হামলা চালায়। ফলে আমার পুত্র হিমেল(১৮) আঞ্জুয়ারা বেগম(৫২) সহ ৪/৫জন আহত হন। এছাড়াও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হযরত আব্দুর রহমান চিশ্তী (রহঃ) মাজারের উন্নয়ন কাজে বাঁধা প্রদান করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নানা ভাবে হুমকী ও হয়রানী করে চলেছেন। সেইসাথে সন্ত্রাসীরা আমি সহ আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যা সহ নানা রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন।
আমরা আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষায় গত ২৫মার্চ গাঁড়ই ও ধনকুন্ডি দুইটি গ্রামের জনপ্রতিনিধি সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিলে মোট ১২২জন গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত অভিযোগ নামা বিচারের দাবীতে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে দাখিল করেও কোন প্রতিকার পাইনি। আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষায় তোতা খন্দকারের সন্ত্রাসী দলবলের চাঁদাবাজী সহ গ্রামের লোকজনের হয়রানী মিথ্যা মামলা বন্ধে আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে বিচার দাবী করছি। এদিকে ২৬আগষ্ট আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মাজারের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বাদী হয়ে বগুড়া জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৩২৫/সি২০২০ বাদী হয়ে ভাংচুর ও চাঁদাবাজীর ঘটনা নিয়ে বিচারের দাবীতে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন আছে। সাংবাদিক সম্মেলনে ধনকুন্ডি ও গাঁড়ই গ্রামের মো. রঘু মাষ্টার, হোসেন আলী তরফদার, শাহিন মন্ডল, কেরামত আলী, স্বপন মীর, মুক্তার হোসেন, হালিম খন্দকার, আশরাফ আলী, আরিফ খন্দকার, আছাদ মন্ডল, মোছাঃ সখিনা বেগম, আঞ্জুয়ারা বেগম, রুবেল, মিলন খন্দকার, রিদয় আহম্মেদ ও আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত হয়ে বিচার দাবী করেন।