কাহালুতে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলনে হট্টগোলঃ দুই ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬৭ জনকে আসামী করে মামলা3 মিনিটে পড়ুন

32

কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধি

কাহালু উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের সম্মেলনে হট্টগোলের ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছে উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের বিলুপ্ত কমিটির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম। পুলিশ সুত্র জানান,এই মামলার প্রধান আসামী করা হয়েছে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সহকারি অধ্যাপক পিএম বেলাল হোসেনকে। মামলায় আওয়ামীলীলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছা সেবকলীগের ২৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪০/৪৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার  আসামীর তালিকায় উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন নারহট্ট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যানর রুহুল আমিন তালুকদার বেলাল, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রাজিব, পৌর স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব, দুর্গাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বাদল, ছাত্রলীগ নেতা বায়োজিদসহ পদ পদবীতে থাকা বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলনের শেষ মুহুর্তে পিএম বেলালের নেতৃত্বে আসামীরা  লোহার রড, লাটিসোটা, চাকু নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীর উপর হামলাসহ ব্যপক ভাংচুর চালায়। রেললাইন থেকে তাদের ছোঁড়া পাথরে ৫/৬ জন নেতাকর্মি আহত হন।
মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম, স্বেচ্ছা সেবকলীগের সম্মেলনে হট্টগোলের জন্য উপজেলা যুবলীগের সভাপতি পিএম বেলালকে দায়ী করেন। পিএম বেলাল জানান, স্বেচ্ছা সেবকলীগের সম্মেলনে হট্টগোলের জন্য যুবলীগ দায়ী নয়, স্বেচ্ছা সেবকলীগের নেতাকর্মিরাই দায়ী।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান জানান, সাবেক বিএনপি নেতা আলহাজ্ব আঃ রহিমকে স্বেচ্ছা সেবকলীগের সহ-সভাপতি করতে হবে এই ধরনের স্লোগান দেওয়ায় ত্যাগী নেতাকর্মির ক্ষোভের বহিপ্রকাশে হট্টগোল হয়েছে। নিজেদের মধ্যে সৃষ্ট ঘটনায় মামলা করা উচিত হয়নি।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোঃ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ জানান, স্বেচ্ছা সেবকলীগের বিষয়ে নিয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। তবে কেউ দোষী হলে শাস্তি পাবে আর দোষী যদি না হয় শাস্তি পাবেনা।
কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, দুই গ্রুপের কোন্দলের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। তারপরেও বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, গত ৭ নভেম্বর কাহালু পৌরমঞ্চে অনুষ্ঠিত উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের সম্মেলনের শেষ মুহুর্ত সন্ধ্যার সময় দু-পক্ষের মধ্যে হট্টগোলা, চেয়ার ভাংচুর, ইটপাটকেল ও পাথর ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনা ঘটে। সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করে। এতে পাথরের আঘাতে কাহালু থানার এ এস আই মাসুদ রানাসহ ৩/৪ জন নেতাকর্মি  আহত হন।