হাইওয়ে পুলিশের নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদে শেরপুরে মহাসড়ক অবরোধ3 মিনিটে পড়ুন

57

শেরপুর (বগুড়া)প্রতিনিধি

বগুড়ার শেরপুরে হাইওয়ে পুলিশের বেপরোয়া আচরণ, নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এসময় উত্তেজিত জনতা হাইওয়ে পুলিশের দুই সদস্যকে ধাওয়া দিলে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন তারা। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে উপজেলার মহিপুর বাজার এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক প্রায় দুই ঘন্টা অবরোধ করে এই প্রতিবাদ জানান তাঁরা। এই অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের উভয়পাশে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অসংখ্য যানবাহন আটকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ হাইওয়ে পুলিশের দোষী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়াসহ হয়রানি-নির্যাতন বন্ধের আশ্বাস দেয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। পাশাপাশি অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর যানচলা স্বাভাবিক হয়ে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১০টার দিকে মহিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে চলাচল করার কারণে একটি ব্যাপারি চালিত অটোরিকসাকে আটক করতে ধাওয়া দেন হাইওয়ে পুলিশের সদস্য কনস্টেবল রেজওয়ান হোসেন। এসময় অটোরিকসাটি পালিয়ে গেলেও এক যাত্রী এবং ওই পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মহিপুর জামতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. বেলাল হোসেন (৩৫) আহত হন। এতে বাজারে উপস্থিত লোকজন হাইওয়ে পুলিশের এধরণের কর্মকাণ্ডে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এছাড়া মুহূর্তের মধ্যে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকেও লোকজন এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে এসব বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের বেপরোয়া আচরণ, নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদ, দোষী পুলিশের শাস্তি ও প্রতিকার দাবি করে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে এ খবর পেয়ে শেরপুর থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দাবি পুরুণের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ লোকজন শান্ত হন এবং অবরোধ তুলে নেয় বলে জানান তারা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশের শেরপুর গাড়িদহ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। আসলে পথচারীকে কে ধাক্কা দিয়েছে আর সেখানে কি ঘটনা ঘটেছে সেটি খতিয়ে দেখা হবে। সেইসঙ্গে তদন্তে হাইওয়ে পুলিশের কোন সদস্য দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে দাবি করেন তিনি।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে শান্ত করি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।