বগুড়ায় শুরু হলো কবিদের মিলনমেলা3 মিনিটে পড়ুন

49

অসীম কুমার কৌশিক

ফুরফুরে বাতাস বইছে। সকাল ১০ টা ছুঁই-ছুঁই করলেও রৌদ্রের দেখা মেলেনি তখনও। কুয়াশার আবরণে যেন ঘুমিয়ে রয়েছে প্রকৃতি। গায়ে শালের চাদর জড়িয়ে, মোটা কাপড় পড়ে কবিরা আসতে শুরু করেছে বগুড়া জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে। বসেছে বইমেলাও। ঘুরে-ঘুরে বইমেলায় বই দেখছেন কেউ-কেউ। কোথাও আবার দাঁড়িয়ে থেকেই চলছে কবিদের আলোচনা।

শুক্রবার সকাল ১১ টায় বগুড়া লেখক চক্রের ৩২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী কবি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কবি আমিনুল ইসলাম।

এর আগে সারাদেশ থেকে আসা কবিদের একটি র‍্যালী বের হয়ে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এসময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বগুড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডাঃ মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লেখক চক্রের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট পলাশ খন্দকার। তিনি বলেন, ‘৩২ বছর অতিবাহিত হলেও সাহিত্যচর্চা, ভাষার শৈল্পিকতা বৃদ্ধিতে লেখক চক্রের জন্য আলাদা কোনো কার্যালয় নেই। তাই বগুড়া লেখক চক্রের জন্য একটি কার্যালয়ের ব্যবস্থা করা হোক। যেখানে সবাই সাহিত্যচর্চা করতে পারবে।’

বাচিক শিল্পী অলক পালের সঞ্চালনায় এসময় অনুষ্ঠানের উদ্বোধক সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কবি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বগুড়া লেখক চক্রের সাহিত্যচর্চার জন্য একটি ঘর থাকা জরুরী। সাহিত্যের বিকাশ ঘটাতে হলে সাহিত্যচর্চা করতে হবে। এসময় তিনি ঘোষণা দেন বগুড়া লেখক চক্র যদি সাহিত্যচর্চার জন্য আলাদা কার্যালয়ের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেয় তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবো।’

শুক্রবার কবি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিক। বিশেষ অতিথির রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ সিদ্দিকী, রাজশাহী কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক কুমার, লায়ন আতিকুর রহমান মিঠু, নাট্যভিনেতা খলিলুর রহমান ও রোকসানা পারভিন লিনা।

বক্তারা বলেন, প্রতিবছর এই দিনে বগুড়া লেখক চক্রের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কবিদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। সারাদেশ থেকে ছুটে আসে কবিরা। মিলিত হয় আত্মিক বন্ধনে। করোনা যখন বিচ্ছিন্ন করেছে সবাইকে সাংস্কৃতিক কর্মীরা তখন মানুষের ভয়কে জয় করতে গেয়ে যাচ্ছে জয়গান।

বক্তারা আরো বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে রয়েছে কবিতা। সেটি প্রকাশ পায় কবির সৃষ্টিকর্মে। অন্যায়, নিপীড়ন, শোষণ ও অনাচারের বিরুদ্ধে যুগে-যুগে কবিরা তাদের লেখনীর মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ যারা করে তারা সবাই কবি। বঙ্গবন্ধুকে কবিদের সাথে তুলনা করে সম্মানিত করা হয়েছে। কারণ তিনি অন্যায়ের সাথে কোনোদিন আপোষ করেননি।