বগুড়ার ধুনটে কিশোরীকে অপহরণ, আটকে রেখে দেড় মাস ধরে ধর্ষণ6 মিনিটে পড়ুন

33

এম,এ রাশেদ স্টাফ রিপোর্টার

অপহরণের পর প্রায় দেড় মাস আটকে রেখে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার ধুনটের এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পুলিশের বিরুদ্ধেও অসহযোগিতার অভিযোগ করেছে কিশোরীর মা। পরে মেয়ে ফেরত পেলেও সমাজের ভয়ে আপস করতে বাধ্য হয়েছে পরিবারটি।

তবে অসহযোগিতার বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ। কিন্তু মামলা হওয়ার প্রায় চার মাস পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ধুনট থানার ওসি বলছেন, ‘আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

পুলিশ, গ্রামবাসী ও ওই পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ধুনট উপজেলার মাসুদ রানা ওই কিশোরীকে বিভিন্ন সময় উত্যক্ত করে আসছিলেন। মাঝে মধ্যে হুমকিও দিতেন কিশোরীর মাকে। সবশেষ গত ১৬ জুলাই ওই কিশোরী নানা বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর যাওয়ার সময় তাকে জোর করে অটোরিকশাচালিত সিএনজিতে তোলেন মাসুদ ও ফজলুল। ফজলুল স্থানীয় ইউপি সদস্য। এরপর আর কিছু বলতে পারে না কিশোরী। এরপর কেটে গেছে এক মাস নয়দিন। পরে সিরাজগঞ্জ থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার বাবা ও এলাকার মানুষ।

ওই কিশোরী বলছে, এই পুরো সময় তাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিলেন অভিযুক্তরা। উদ্ধারের পর ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে।

কিশোরীর মা বলেন, এ ঘটনায় ধুনট থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অসহযোগিতা করেছে । তবে মামলা পুলিশ নিয়েছে অপহরণের ২৬ দিন পরে। গত ১২ আগস্টে ধুনট থানায় মামলা হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। মামলায় মাসুদ ও ফজলুল ছাড়া আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন, মো. আবদুল হাই, মো. আবদুল মান্নান, মো. রুবেল হোসেন, মোছা. সাথী খাতুন ও মোছা. রুবিয়া খাতুন।

ওই কিশোরীর মা জানান, মেয়েকে ফেরত পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমান চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিলে এই মামলা মীমাংসা করতে চাপ প্রয়োগ করেন। এমনকি একঘরে করেও রাখা হয় তাদের। অনেকটা বাধ্য হয়েই আপোষ করতে রাজি হয় তারা। যদিও আদালত ছাড়া ধর্ষণ মামলা আপোষ করার সুযোগ নেই।

ওই কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, ‌‌‘তদন্তকারী কর্মকর্তা স্থানীয় মামলা বা পুলিশের কাছে মেম্বার ফজলুল হকের নাম বলতে বারণ করেছেন। তবে আমার মেয়ে বার বার বলে আসছে, আমাকে মাসুদ ও স্থানীয় মেম্বার অপহরণ করেছেন। পরে থানায় গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেছেন, মামলা আমার কাছে আসলে তা গোয়ার মধ্যে দিমু।’

ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর বাবা-মায়ের অভিযোগ, থানা থেকে ধর্ষণ মামলা তুলে নেয়ার জন্য সাদা কাগজেও সই নেয়া হয় তাদের। তবে এখন পর্যন্ত মামলা তুলে নেয়া হয়নি। বাদীকে গালিগালাজ ও অসহযোগিতার অভিযোগ আছে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আহসানুল হকের বিরুদ্ধে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ কর্মকর্তারা। বরং টাকা নিয়ে মীমাংসা করে এখন পুলিশ বিরুদ্ধে বদনাম করার পাল্টা অভিযোগ করছেন ওই কিশোরীর বাবা মা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আহসানুল হক জানান, ‘হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে এসব কথা বলা হচ্ছে। আসামি ধরার জন্য লাখ টাকা হলেও খরচ করা হবে। প্লিজ ভাই আপনারা এসব কথায় কান দিয়েন না।’

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, ‘ওই কিশোরীকে ঢাকা থেকে আটক করে নিয়ে আসার পর ২২ ধারা করা হয়েছে। মেডিকেল টেস্টও করা হয়েছে। আরো আসামীরা এলাকায় নেই। আসামির লোকেশন নিয়ে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। টাকা পয়সা নিয়ে কে কীভাবে মীমাংসা করল এই বিষয় আমাদের নয়। আমরা আসামি ধরব। চার্জশিট দিব।’

ওই কিশোরীর সাথে পুলিশ অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওসি বলেন,‌ ‘‍এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তারা দেড় লাখ টাকা নিয়ে চুপ করে বসে আছেন পরিবারের লোকজন। অথচ এ পাশে এসে পুলিশের বিরুদ্ধে কথা বলে;এটা কতটুকু সত্য তা আমার জানা নেই। ’

ধর্ষণ মামলা মীমাংসা করার বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ারের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে আসামীদের সাথে বাদীর মীমাংসার দায় সাবেক চেয়ারম্যানের ওপর দিলেন গোপালনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। তার দাবি আসামী ও সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপিপন্থী হওয়ায় একজোট হয়ে কাজ করেছেন।

বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন সরকার বলেন, আমি জানি এটা এই মামলা আমার মীমাংসা করার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। কিন্তু আসামী ও সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপিপন্থি হওয়ার তারা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করেছেন। তবে বৈঠকে আমি উপস্থিত ছিলাম। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।