টিনএজার সন্তানদের প্রতি বাবা-মায়ের করণীয়4 মিনিটে পড়ুন

64

ফিচার ডেস্ক,

ডিজিটাল যুগে সন্তানের বয়স যতই টিনএজের দিকে এগিয়ে যায় ততই যেন আজকাল মা-বাবার সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে সন্তানদের। শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দেয়ার সময়টা যেমন দুঃসহ ছেলে-মেয়েদের জন্য, তেমনি বাবা-মা এর জন্য উৎকণ্ঠার। ১৩-১৯ বছর বয়সের সময়কে টিনএজ বয়স বলা হয়ে থাকে। এ সময় শারীরিক, মানসিক ও অভ্যাসগত অনেক পরিবর্তন দেখা যায় যার অধিকাংশই বাবা-মা সহজভাবে নিতে পারেন না, অপরদিকে ছেলে-মেয়েরাও ভয় বা সংকোচে বলতে পারেনা। ফলে সূচনা হয় পারস্পারিক দূরত্বের।

একসময় দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি থেকেই অনেক ছেলে-মেয়ে পা বাড়ায় ভুল পথে, অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয় অসংখ্য পুষ্প কলি। আর তাই এই সময়টায় সন্তানের পাশাপাশি মা-বাবার আচরণও সংযত হতে হবে। এই বয়সে এসে তাদেরও যে নতুন করে শিখে সন্তানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে সেই বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার।

সন্তানের বন্ধু হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। বন্ধু হয়ে ওঠার চেষ্টা মানে এই নয় যে, কে কার সঙ্গে প্রেম করছে সেই খবর নেবেন। কিংবা কোন বন্ধুর টিউশন টিচার কত ভালো তাই নিয়ে প্রতিযোগিতা করবেন এমনটা নয়। স্কুলের পড়াশোনার খবর নেওয়ার পাশাপাশি বাচ্চাকে নিয়ে উইকএন্ডে ঘুরতে যান। একসঙ্গে বসে প্রোজেক্ট বানান। তবে সব সময় পেছন পেছন ঘুরবেন এই মানসিকতাও রাখবেন না।

সন্তানকে যথেষ্ঠ স্পেস দিন। সব মানুষের জীবনেই একটা স্পেসের প্রয়োজন হয়। আর সেটা আপনাকেই বুঝতে হবে। সন্তানকেও যেমন আগলে রাখবেন তেমনই শ্রদ্ধাও করবেন। আর তাই সন্তানের ফোনের পাসওয়ার্ড জানলেও টেক্সট খুলে পড়বেন না। এই ভুল যদি সন্তান করে থাকে তাহলে তাকেও শেখানোর দায় কিন্তু আপনারই।

সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক, যোগাযোগ সব ভালো রাখুন। এমন কোনও আচরণ করবেন না যাতে সন্তান দূরে চলে যায়। সন্তানের সামনে ড্রিংক কিংবা অন্যান্য সম্পর্ক এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। মনে রাখবেন সন্তান কিন্তু আপনাকেই দেখে শিখবে। আর তাই ওর মধ্যে কোনও নেগেটিভ প্রভাব পড়তে দেবেন না। বরং সন্তানের সঙ্গে কোয়ালিটি সময় কাটান।

সন্তানের সঙ্গে এমন কোনও আচরণ করবেন না, যাতে সে বাড়িতে থাকতে না চায়। প্রতি মুহূর্তে রাগ, অভিমান করতে হয়। বাড়িতে সুন্দর পরিবেশ দেওয়ার চেষ্টা করুন। অযথা চিৎকার, স্বামী স্ত্রীয়ের ঝামেলা কিংবা অফিসের সমস্যা বাড়িতে টেনে আনবেন না।

যে কোনও বাচ্চারই বেড়ে ওঠা মা-বাবাকে দেখে। বাড়ির পরিবেশ থেকে। তাই সবসময় সন্তানের ভুল না ধরে বরং সন্তানের পাশে থাকার চেষ্টা করুন। সন্তানের ভালো কাজে উৎসাহ দিন। সেই সঙ্গে সন্তান কোনও ভুল করলে অবশ্যই তা ধরিয়ে দিন। কিন্তু অযথা বকাবকি করবেন না।

একান্তই যদি সন্তান ঔদ্ধত্য হয়ে থাকে, তাহলে মাথা গরম না করে তাকে শুধরানোর সময় ও সুযোগ দিন। এসময় ছেলে-মেয়েরা নিজেদের খুব অসহায় মনে করে, তাকে আশ্বাস দিন যে তার আস্থা ও সম্পূর্ণ নির্ভরতার জায়গায় আপনারা আছেন। প্রয়োজনে ছুটির দিনে কোথাও বেড়াতে যেতে পারেন অথবা পছন্দের কোনো খাবার রান্না করতে পারেন। নতুন কুঁড়িগুলোর বিকাশে বাবা-মা এর দায়িত্ব অনেক বেশি। সামান্য কিছু প্রয়াস আর সচেতনতা আপনার সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত হতে সাহায্য করবে।