গাবতলীতে মাকে ফোন করে ছেলের লাশের খোঁজ দিল অপহরণকারীরা!3 মিনিটে পড়ুন

64

স্টাফ রিপোর্টার

বগুড়ার গাবতলীতে মুক্তিপণ না পেয়ে এক প্রবাসীর শিশু সন্তানেকে হত্যা করেছে অপহরণকারীরা। অপহরণের পরপরই থানায় জিডি করা হলেও পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির পরিবার।

অপহরণের প্রায় দেড়মাস পর অপহরণকারীদের ফোনে দেওয়া তথ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির পাশে পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যার শিকার শিশুপুত্র হানজালা (৬) গাবতলী উপজেলা রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের নিশুপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী পিন্টু মিয়ার ছেলে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা সহ জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তবৃন্দ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক মিয়া জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর বাড়ির পাশ থেকে শিশু হানজালাকে অপহরণ হয়। ওই দিনই থানায় জিডি করে পরিবারের সদস্যারা। ছেলে অপহরণের খবর পেয়ে দুদিন পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন বাবা পিন্টু মিয়া। অপহরণের পর শিশুটির মাকে ফোন করে প্রথমে পাঁচ লাখ ও পরে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। টাকা না দিলে ছেলেকে হত্যা করা হবে বলেও জানায় তারা। শিশুটির বাবা-মা অপহরণকারীর মোবাইল নম্বর নিয়ে থানায় জিডি করেন। কিন্তু প্রায় দেড় মাসেও শিশুটিতে উদ্ধার বা অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি গাবতলী মডেল থানার পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অপহরণকারীরা যে নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ চেয়েছিল সেই একই নম্বর থেকে শিশুটির মাকে ফোন করে বলে টাকা না দেওয়ায় তার ছেলেকে হত্যা করে তাদের বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পুকুর থেকে পলিথিনে মোড়ানো ইট বেঁধে পানিতে ডুবে রাখা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে গাবতলী থানা পুলিশ।

গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুজ্জামান জানান, থানা পুলিশকে জানানোর পর কয়েক দফা মোবাইলের সিডিআর বের করা হয়েছে। কিন্তু ভুয়া নাম ব্যবহার করায় সঠিকভাবে লোকেশন ট্যাগ করা সম্ভব হয়নি। তারপরও শিশুটিকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা চালিয়ে গেছে পুলিশ। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকারীকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা চলছে।