সিরাজগঞ্জে বিজয়ী কাউন্সিলর তরিকুল হত্যা: গ্রেপ্তার ১4 মিনিটে পড়ুন

33

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি |

সিরাজগঞ্জে চাঞ্চল্যকর বিজয়ী কাউন্সিলর তরিকুল ইসলাম খানের হত্যা মামলায় জাহিদুল ইসলাম (২০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর এলাকা থেকে জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (২২ জানুয়ারী) সকালে সিরাজগঞ্জ সদর থানা চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম।

গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম শহরের সাহেদনগর ব্যাপারীপাড়া এলাকার টিক্কা ব্যাপারী ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদুল ইসলাম জানান, সে উট পাখি প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শাহাদত হোসেন বুদ্ধিনের সমর্থক। নির্বাচনের তিনদিন আগে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য জাহিদুল ইসলাম ঢাকা থেকে সাহেদনগর ব্যাপারীপাড়ার নিজ বাড়িতে আসেন। এরপর দুইদিন নির্বাচনি প্রচারে তিনি অংশ নেন। নির্বাচনের আগের দিন রাতে এক আসামির বাড়িতে তার উপস্থিতিতে এজাহার নামীয় ও অন্যান্য আসামিরা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তরিকুল ইসলাম খানের ওপর হামলার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এজাহার নামীয় এক আসামি তাকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি দেয়। ফলাফল ঘোষণার সময় অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে জাহিদুলও ছুরি নিয়ে শহীদগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রার্থী বুদ্ধিন ও তার সমর্থকদের সঙ্গে উপস্থিত হন। সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে ফলাফল ঘোষণায় ডালিম প্রতীক ৮৫ ভোটে তরিকুল ইসলামকে বিজয়ী ঘোষণা করে। এরপরই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় জাহিদুল তরিকুলের পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এরপর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি তার বাড়ির পশ্চিম পাশের পরিত্যাক্ত ডোবায় পুতে রেখে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানার ধলপুর এলাকার ভাড়া বাসায় চলে যায় জাহিদুল ইসলাম।

জবানবন্দিতে এজাহার নামীয় কয়েকজন আসামি ছাড়াও অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজন আসামির নাম উল্লেখ করেছেন জাহিদুল ইসলাম। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কয়েকটি টিম তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, ১৬ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ভোট গণনায় ৮৫ ভোটে বিজয়ী হন তরিকুল ইসলাম। ফলাফল ঘোষণার পরপরই পরাজিত প্রার্থী শাহাদত হোসেন বুদ্দিনের সমর্থকগণ বিজয়ী প্রার্থীদের ওপর হামলায় চালায়। এ সময় পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিজয়ী কাউন্সিলর তরিকুল গুরুতর আহত হন। ওইদিন রাত ৮টার দিকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

পরদিন রোববার (১৭ জানুয়ারি) রাতে নিহতের ছেলে একরামুল হক হৃদয় বাদী হয়ে পরাজিত প্রার্থী ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন বুদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪০/৫০ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এ মামলার ২৭ নম্বর আসামি স্বপন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করে জেলাহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।