নন্দীগ্রামে ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রেমিকের সর্বস্ব লুট, প্রেমিকাসহ গ্রেপ্তার ৩4 মিনিটে পড়ুন

227

অনলাইন ডেস্ক

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক প্রেমিকের সর্বস্ব লুট করলো প্রেমিকা ও তাহার সহযোগীরা।এ ঘটনায় থানা পুলিশ প্রতারক প্রেমিকাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তার বাড়ি থেকে সিসিটিভির ডিভিআর জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন- বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভদ্রদীঘি গ্রামের প্রবাসী সুজন প্রামানিকের স্ত্রী রিনা বেগম (৩৭), তার সঙ্গী একই উপজেলার কহুলী তালুকপুরের মিলন হোসেনের ছেলে লিটন হোসেন (২২) ও কহুলী গ্রামের আবদুল আলিমের ছেলে গোলাম রাব্বি (২০)।
জানা গেছে, নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার কালাকান্দর গ্রামের আব্দুল মোত্তালেব একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) তে চাকুরি করেন সিলেটে। গত দেড় মাস আগে আব্দুল মোত্তালেবের সঙ্গে শিপলু সাথী নামের একটি ফেইসবুক আইডির মাধ্যমে রিনা বেগমের পরিচয় হয়। কথোপকথনের একপর্যায়ে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর গত সোমবার (১৬ জুন) সকালে সিলেট থেকে আব্দুল মোত্তালেব নন্দীগ্রাম ভদ্রদীঘি গ্রামে প্রেমিকার রিনা বেগমের বাড়িতে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি প্রেমিকা রিনার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন তার স্বামী সৌদি আরবে থাকেন। তখন বাড়ির ভিতরে যেতে অসম্মতি জানায় আব্দুল মোত্তালেব। এরপর স্থানীয় দুই যুবক তার হাত ধরে আপ্যায়নের কথা বলে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর ওই বাড়িতে আরো ৪ যুবক আসে। এ টাকা দিতে রাজি না হলে তাকে চড়-থাপ্পরসহ হাত-পা বেঁধে মারপিট করে। একপর্যায়ে আবু মোত্তালেবের শার্ট প্যান্ট খুলে মোবাইল ফোনে উলঙ্গ ছবি ধারন করে। সেই ধারন করা ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়িয়া দেয়ার হুমকি প্রদান করা হয়।
এসময় বন্ধুদের ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। বাঁকী ৮৫ হাজার টাকা দিতে না পারায় ওই দিন সন্ধ্যায় দুইটি ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় তারা। এছাড়া মোবাইলে থাকা একটি মেমোরি কার্ড, মানি ব্যাগে থাকা একটি সাউথ-ইস্ট ব্যাংক ও একটি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড কেড়ে নেয়। তারপরে রাতে তাকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। আবদুল মোত্তালিব ভ্যানযোগে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে আসেন। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার সংস্থার নন্দীগ্রাম শাখায় রাত্রিযাপন করে। বৃহস্পতিবার সকালে নন্দীগ্রাম থানায় গিয়ে প্রতারক চক্রের হোতা রিনা বেগম, তার সহযোগী লিটন হোসেন, গোলাম রাব্বী ও কহুলী গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে বুড়ইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বুলু মিয়ার (৫৫) বিরুদ্ধে মামলা করেন।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ইতিমধ্যে তিনজনকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার বিকালে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাতদিন করে রিমান্ড চাওয়া হলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।