আওয়ামীলীগের সাংগঠনিকভাবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে যারা।

55

বগুড়া এক্সপ্রেস ডেস্কঃ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করল আওয়ামী লীগ। নতুন মন্ত্রিসভাও গঠন হয়েছে গত ১১ জানুয়ারি। তবে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের কাউকেই নেওয়া হয়নি। এমনকি দুইজন গুরুত্বপূর্ণ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাদেরকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে এদের হাতেই সংগঠনের দায়িত্ব যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মধ্যে সাংগঠনিক ভাবে বিপযর্য় ঘটেছে। আর তা হল সারা দেশে অভ্যন্তরীণ কোন্দোল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন প্রচারণার সময় দলীয় প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী সমর্থদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনো জায়গায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। নির্বাচনের পরও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দোল প্রবল আকার ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ রকম বাস্তবতায় সংগঠনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সংগঠন গোছানোই আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ নির্বাচনের পর বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলো আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা করেছে। এ রকম বাস্তবতা বিবেচনা করে দলের কয়েকজন সক্রিয় নেতাকে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র সংগঠনের দায়িত্ব পালন করার জন্য। এদের মধ্যে বাহাউদ্দিন নাছিম এবং মাহবুবউল আলম হানিফ অন্যতম। এই দুইজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবক্ষণিক ভাবে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।

এছাড়াও এবার লক্ষণীয় ব্যাপার হল কোনো সাংগঠনিক সম্পাদককেই মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আহমদ হোসেন, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এবার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তাদের কাউকেই মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি।
আওয়ামী লীগের একাধিক নীতি নির্ধারক মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, সরকারের একটা বিবেচনা আছে যে, যারা সাংগঠনিক সম্পাদক আছেন তারা দলের জন্য কাজ করবে। কারণ এবার সরকারকে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উভয় ভাবেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এ রকম বাস্তবতায় দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও আওয়ামী লীগের একাধিক হেভিওয়েট নেতা আছেন যেমন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাঈদ খোকন এদেরকেও এবার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির গুঞ্জন ছিল।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে দল এবং সরকার আলাদা করার নীতি নিয়ে এগুচ্ছেন সে বিবেচনা থেকে এদেরকে মন্ত্রী করা হয়নি। এ সমস্ত নেতারা দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরও জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজমকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবারও সেই একই পথ অনুসরণ করে এই নেতাদেরকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি বলে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে।
সূত্রঃ- BANGLA INSIDER