ফেরাটা জয় দিয়ে রাঙাতে চায় বাংলাদেশ5 মিনিটে পড়ুন

30

বগুড়া এক্সপ্রেস ডেস্ক

গত জানুয়ারিতে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে বুরুন্ডির বিপক্ষে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ ফুটবল দল। এরপর মার্চে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ের ম্যাচ থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। আজ নেপালের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফিরছেন জামাল ভূঁইয়ারা। দীর্ঘ বিরতির পর এই ফেরাটাকে জয় দিয়ে রাঙাতে চায় বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর নামে উৎসর্গ করা এই সিরিজটাকে নিজেদের করেই বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলতে কাতার যাওয়ার ইচ্ছার জামাল-সুফিলদের। আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বিকাল পাঁচটায় শুরু হবে এই ম্যাচ। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও টি স্পোর্টস সরাসরি সম্প্রচার করবে এই ম্যাচ।

২০১৩ ও ২০১৮ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের কাছে দুবারই ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল দল।

দুই দলের শেষ সাক্ষাৎটি হয় গত বছর নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে। শেষ দু’টি ম্যাচেই লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠে ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তাই তার কাছে ম্যাচ দু’টি প্রীতির আড়ালে প্রতিশোধের মঞ্চ। গতকাল ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সেটাই জানালেন সদ্য কলাকাতা মোহামেডানে নাম লেখানো এই হোল্ডিং মিডফিল্ডার। জামাল বলেন, প্রতিটি ফুটবলারের লক্ষ্য থাকে জেতা। আমরা অবশ্যই জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবো। যদিও জয় পরাজয়ের চেয়ে কোচ জেমি ডে’র কাছে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দু’টি কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের প্রস্তুতির মঞ্চ। কোচের সঙ্গে সুর মিলিয়ে জামাল বলেন, কাতার ম্যাচের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে খেলার জন্য ফিট হয়ে ওঠা। সেজন্য অবশ্যই নেপালের এই ম্যাচ দু’টি আমাদের কাজে দিবো। কিন্তু একজন খেলোয়াড় হিসেবে অবশ্যই আমি জিততে চাই। আমরা নেপালের কাছে তিন ম্যাচ হেরেছি, সেটা আমার মাথায় আছে এবং এ জন্য আমি ম্যাচটা জিততে চাই।

নেপালের বিপক্ষে ম্যাচের ফরমেশনেও কাতার ম্যাচের ভাবনা থাকছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে জেমি ডে বলেন, ‘নেপাল ম্যাচে আমরা আক্রমণাত্মক ছক সাজাব না। কেননা আমাদের কাতার ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা ৪-৪-২ বা ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলতে পারি। কৌশল সাজাব কাতার ম্যাচের প্রস্তুতি সামনে রেখে। আমরা জিততে চাই, কিন্তু এটা নিয়ে চিন্তিত নই।’ এদিকে কোচের ফরমেশনে বাংলাদেশ দলে খেলবেন দু’জন ফরোয়ার্ড। ২৩ জনের প্রাথমিক দলে আছেন চার ফরোয়ার্ড- নাবিব নেওয়াজ, মাহবুবুর রহমান সুফিল, তৌহিদুল আলম সবুজ ও সুমন রেজা। এই চারজন লড়ছেন দুই ফরোয়ার্ড পজিশনে জায়গা পেতে। এ লড়াইয়ে সুমন রেজার এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন জেমি ডে। নেপাল ম্যাচে অভিষেক হয়ে যেতে পারে গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকুরও।

এদিকে করোনার থাবায় বিপর্যস্ত নেপাল। ঢাকা আসরে আগে তাদের সাত ফুটবলার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। ঢাকায় এসেই কোভিড পজেটিভ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন রণজিত দীমাল। এই ম্যাচ দু’টিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ যেখানে তিন সপ্তাহ ট্রেনিং করেছে, সেখানে নেপাল সময় পেয়েছে মাত্র এক সপ্তাহ। তবে এসব নিয়ে বিচলিত নন দলটির কোচ বাল গোপাল মহারজন। গতকাল ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হচ্ছে। ছেলেরা মাঠে নামার জন্য উদগ্রীব। আমার বিশ্বাস পরিচিত পরিবেশে উপভোগ্য একটি ম্যাচ উপহার দিতে পারবো আমরা।
নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ কঠিন প্রতিপক্ষ। তার ওপর নিজেদের দর্শকের সামনে খেলবে জামাল-সুফিলরা। এটা নেপালের ফুটবলারদের জন্য বাড়তি চাপ হবে কিনা জানতে চাইলে নেপাল কোচ বলেন, এই স্টেডিয়ামে আমরা সবশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেছি। তখন কিন্তু এই স্টেডিয়ামে এই দর্শকের সামনে খেলে জিতেছি। সুতরাং আমার বিশ্বাস এসব মাথায় নিয়েই আমার ছেলেরা সেরাটা দিতো পারবে।

তবে এসব ছাপিয়ে দুই দলই খুশি করোনার মধ্যে ‘নিউনরমাল’ জীবনে মাঠে ফিরতে পারায়। এখন দেখা যাক মহামারি করোনাভাইরাসকে পাশ কাটিয়ে দর্শক ফেরার ম্যাচে কেমন ফুটবল উপহার দেয় দুই দল।