ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে স্বাধীন ফিলিস্তিন চায় সৌদি3 মিনিটে পড়ুন

42

বগুড়া এক্সপ্রেস ডেস্ক

স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না সৌদি আরব। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে খুব শিগগিরই সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের চুক্তি হতে পারে খবর ছড়ালেও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের জন্য আগে স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রয়োজন।

শুক্রবার মেড২০২০ নামে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে সৌদি যুবরাজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণে আমাদের একটি শান্তি চুক্তি দরকার, যা মর্যাদাসম্পন্ন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং এমন কার্যক্ষম সার্বভৌমত্বের অধিকার প্রদান করবে, যেটি ফিলিস্তিনিরা মেনে নিতে পারেন।

তিনি জানান, ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠিত হলেই কেবল ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা বিবেচনা করবে সৌদি আরব।

যুবরাজ ফয়সাল বলেন, এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে হবে। এখন যা সবচেয়ে জরুরি তা হচ্ছে, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা।

গত সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের সঙ্গে কথিত ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই চুক্তিকে ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’ বলে মনে করছেন ফিলিস্তিনিরা।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ তাদের বহু পুরনো লক্ষ্য। তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে ফেজে (মরোক্কান শহর) বিষয়টি প্রথমে আলোচনার টেবিলে তুলেছিলেন তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্স ফাহাদ। আমাদেরও সেই একই লক্ষ্য, যেখানে ইসরায়েল এ অঞ্চলের একটি সাধারণ অংশ হবে, যেখানে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের পুরোপুরি স্বাভাবিক সম্পর্ক থাকবে। সেটি বাস্তবে পরিণত করতে আমাদের যা দরকার, তা হলো একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে দু’টি আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া আরব শান্তি আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য। ২০০২ সালে সৌদি আরবই প্রথম এ সমাধানের প্রস্তাব করেছিল।

১৯৬৭ সালের যুদ্ধে গোলান মালভূমি, পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীরসহ ফিলিস্তিনিদের যেসব ভূমি ইসরায়েল দখল করেছে সেগুলো ছেড়ে দেয়ার শর্তে আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব দিয়েছিল সৌদি। এরপর আরব লিগে সেই প্রস্তাব নিয়ে বহুবার কথা হলেও এখন পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।

সূত্র: আল জাজিরা