কাল জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন5 মিনিটে পড়ুন

33

বগুড়া এক্সপ্রেস ডেস্ক

দীর্ঘ ৬ বছর পর বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) জয়পুরহাটে শুরু হচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে শহরে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে নেতাকর্মীদের সাথে চলছে আলাপচারিতা ও যোগাযোগ। তবে কাউন্সিলরা সরাসরি ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করতে পারবেন কি-না এ বিষয়ে স্পষ্ট হতে পারছে না তারা। কারন, কেন্দ্র থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সম্মেলনে ঘোষণা দিতে পারেন।

জানা গেছে, সম্মেলনে উদ্ভোধক হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান। প্রধান বক্তা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, বিশেষ অতিথি সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন হুইপ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আ’লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সামছুল আলম দুদু ।

স্থানীয় আ’লীগ সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এ্যাড. সামছুল আলম দুদু এমপি সভাপতি ও এস.এম সোলায়মান আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর আর কোনো নতুন কমিটি হয়নি।

সূত্র জানায়, এই সম্মেলনে ১৯৬ জন কাউন্সিলর। সম্মেলনে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভার্চুয়াল বক্তব্য দেবেন এবং কেন্দ্র থেকেই জেলা আ’লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করে ঘোষণা দিবেন অথবা সিদ্ধান্ত নিয়ে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এ সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন জেলা আ’লীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাংসদ এ্যাড. সামছুল আলম দুদু, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস.এম সোলায়মান আলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য আরিফুর রহমান রকেট, সহ-সভাপতি গোলাম হাক্কানী, অধ্যক্ষ খাজা শামছুল ইসলাম, অ্যাড. নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল পিপি, অ্যাড. মোমেন আহমেদ চৌধুরী জিপি। এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন জেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সদস্য ও পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, পাঁচবিবি উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব ও আক্কেলপুর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর।
এছাড়াও আলোচনায় আছেন জেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখর মজুমদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল আলম বেনু, জেলা পরিষদ সদস্য ও দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান টিটো, সদস্য নন্দলাল পার্শী, সদর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম।

আসছে কাউন্সিলকে ঘিরে উৎসবের পাশাপাশি পদ-পদবী নেওয়ার জন্য সম্ভাব্য সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের নিকট ব্যাপক দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, দুঃসময়ের স্বৈরাচার, স্বাধীনতা বিরোধী, জেল-জুলুম, নির্যাতিত, লাঞ্ছিত হওয়া নতুন-পুরাতন নেতাদের রেখেই জেলা আ’লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হোক। এখন সবার দৃষ্টি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে। নতুন কোনো চমক আসবে, নাকি পুরাতন নেতাদের দিয়েই আগামী দিনের নতুন চ্যালেঞ্জ নিবে জেলা আ’লীগ এমন হাজারো প্রশ্ন এখন নেতাকর্মীদের মাঝে।

এ ব্যাপারে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম সোলায়মান আলী বলেন, ‘জেলা আ’লীগের সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে পদে রাখবেন, তা মেনে নিয়ে আগামী দিনে দল করে যাবো।

জেলা আ’লীগের সভাপতি অ্যাড. সামছুল আলম দুদু বলেন, ‘ আমি সভাপতি আছি। এ সম্মেলনে আবারও যদি সভাপতি নির্বাচিত হই তাহলে যেভাবে বিগত সময়ে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করেছি, সেইভাবে দলের কাজ করবো। আর যদি অন্য কাউকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে মেনে নিয়েই দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম করে যাবো।