শেরপুরে বঙ্গবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হানা4 মিনিটে পড়ুন

41

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শেরপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত শুভলি বঙ্গবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল একাডেমিক ভবনে ওঠার সিঁড়ি রাতের আঁধারে ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বিদ্যালয়টির শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বুধবার (১৮নভেম্বর) শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিগত ১৯৮৫সালে শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের শুভলি গ্রামে বেশ কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের সার্বিক সহযোগিতায় জাতির জনকের নামে ওই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে প্রায় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করছে। অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রাখি আক্তার জানান, বিদ্যালয়ে আরেকটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। বৈশি^ক মহামারী করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও ভবন নির্মাণ কাজ দেখভালের জন্য প্রায়দিনই বিদ্যালয়ে আসেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪নভেম্বর সকালের দিকে আসেন এবং বিকেলে বাড়িতে যান। কিন্তু ওইদিন রাতেই নৈশ্যপ্রহরী মোবাইল ফোনে আমাকে জানান কে-বা কারা বিদ্যালয় ভবনে ওঠার সিঁড়ি দিয়ে গেছে। পরে ঘটনাটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেই। বিদ্যালয়ের সভাপতি আকবর হোসেন খোকা বলেন, শুভলিসহ আশপাশের গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ করার জন্য উদ্যোগ নেন স্থানীয় লোকজন। এক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে ওঠার সিঁড়ি সামান্য বাধে। সম্ভবত এজন্যই এলাকার কতিপয় লোকজন সিঁড়িটি ভেঙে ফেলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যারাই রাতের আঁধারে এ ধরণের কাজ করেছেন তারা ঠিক করেননি। কেননা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অনেক কিছুই করা যায়। কারণ মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সরকারি বিদ্যালয়ও ঠিক রাখতে হবে। তাই সিঁড়ি ভাঙার দরকার হলে অবশ্যই যথাযথ নিয়ম মেনে সেটি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া ভেঙে ফেলা সিঁড়ি অচিরেই নির্মাণ করে দেয়া হবে বলেও দাবি তার। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সিঁড়ি ভাঙার সঙ্গে সভাপতি ও তার লোকজন জড়িত রয়েছেন। এমনকি তার মদদ ছাড়া এমন কাজ হতে পারে না। তাই প্রশাসনের চাপে তিনি নিজেই আবার সিঁড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তাঁরা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. মিনা পারভীন জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। ভেঙে ফেলা সিঁড়ি নির্মাণ করার জন্য সভাপতি আশ^াস দিয়েছেন। এছাড়া ঘটনায় জড়িত দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ এ প্রসঙ্গে বলেন, কোন প্রকার নির্দেশনা ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙা আইন অনুযায়ী দণ্ডণীয় অপরাধ। তাই ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে দাবি করেন তিনি।